দিন দর্পণ, কলকাতাঃ কলকাতায় একের পর এক বাস দুর্ঘটনা রুখতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নয়া গাইড লাইন প্রকাশ করা হয়েছে।ছয়পাতার একটি গাইড লাইন প্রকাশ করা হয়েছে।এই গাইড লাইনে আছে বাস চালক এবং কন্ডাক্টরদের জন্য একাধিক নিয়মকানুন ও নির্দেশ।যাত্রী তোলার জন্য রাস্তায় এক মিনিটের বেশি বাস দাঁড়িয়ে থাকলে সেই বাসকে জরিমানা করা হবে।পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও অসুবিধা হলে যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর জন্য প্রত্যেক বাসে রাখতে হবে রেজিস্টার্ড কমপ্লেন বক্সও।
জানা গিয়েছে, চালক ও কন্ডাক্টরদের ইউনিফর্ম চালু করতে চায় পরিবহণ দপ্তর।কমিশন প্রথার বিকল্প কী হতে পারে তা নিয়েও ভাবতে বলা হয়েছে মালিকদের।এই গাইডলাইনে আরও বলা হয়েছে, শহরের রাস্তায় আগামীদিনে টাইম টেবিল মেনে চলতে হবে।তা ছাড়া কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে সেই বিষয়ে চালক বা কন্ডাক্টর যাতে থানায় ফোন করে জানান সে বিষয়টিও এসওপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।চালক ও কন্ডাক্টরদের নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের অতীতের কাজের অভিজ্ঞতা বা কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না তা মালিকদের খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।এদিকে, প্রতিটি বাস চালক এবং কন্ডাক্টরদের লাইসেন্সের কপি বাসে আটকে রাখতে বলা হয়েছে, যাতে সহজেই যাত্রীদের নজরে আসে।
চালক এবং কন্ডাক্টরদের জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর ৭ থেকে ১৫ দিনের রিফ্রেশার কোর্স চালানোর কথা বলা হয়েছে।এতে ট্রাফিক আইন এবং যাত্রীদের সঙ্গে ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয় শেখানো হবে।নতুন গাইড লাইনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক বাস চালককে একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।বাস চালানোর আগে অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে বাস চালু করতে হবে।এই পদ্ধতিতে প্রশাসন বাসের গতি ট্র্যাক করতে পারবে এবং ওভারস্পিড হলে অ্যালার্ট পেয়ে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে পারবে।বাস মালিকদের চালক-কন্ডাক্টরদের প্রশিক্ষণ এবং শ্রম দপ্তরের ওয়েলফেয়ার স্কিমের আওতায় আনতে উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে।এছাড়া, কমিশন প্রথার বিকল্প ভাবারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন,পথ নিরাপত্তা বাড়াতে মানুষকে সচেতন করতে আমরা একাধিক ক্যাম্প করছি।সরকারের পাশে এ বিষয়ে আমরা সব সময় আছি।একই কথা বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপনারায়ণ বসুরও।তিনিও জানান, যতটা সম্ভব চালক এবং কন্ডাক্টরদের প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করা হবে।বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত।
