দিন দর্পন, শ্রীহরিকোটাঃ গত পাঁচ মাস আগে ৫ জুন ফ্লোরিডা থেকে সুনীতাদের নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিল বোয়িং স্টারলাইনার। গন্তব্য ছিল মহাকাশে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন। সেই সময় সুনীতার ওজন ছিল ৬৩ কেজি।বোয়িং স্টারলাইনারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পৃথিবীতে ফিরতে পারেননি সুনীতা উইলিয়ামস এবং তাঁর সঙ্গী মহাকাশচারী বুচ উইলমোর।পাঁচ মাস ধরে মহাকাশ স্টেশনে দিন কাটানো তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি নাসার একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে সুনীতার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।
সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মহাকাশচারী ব্যারি বুচ উইলমোরের সঙ্গে গল্প করছেন সুনীতা উইলিয়ামস।কিন্তু সুনীতার চেহারা দেখেই শিউরে উঠেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।দুইজনেরই মারাত্মক পরিমাণে ওজন হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু সুনীতার ওজন কমেছে কয়েক কিলোগ্রাম। তাঁর চোয়াল ভেঙে গিয়েছে, চুলে পাক ধরেছে। একেবারে বয়স্ক দেখাচ্ছে তাঁকে। আসলে মহাকাশের পরিবেশে চেহারার বদল অবশ্যম্ভাবী।
মহাকাশে থাকতে হলে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেতে হয়। হাড় ও পেশি সবল রাখতে বিশেষ ডায়েট আছে। তা যদি ঠিকমতো না খাওয়া হয়, তাহলে চেহারার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। সম্ভবত সুনীতার ক্ষেত্রে তেমনটাই হচ্ছে। নাসা সূত্রে জানা যায়, দুই মহাকাশচারীর স্বাস্থ্যের দিকে নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। দুইজনেরই প্রাণনাশের আশঙ্কা নেই।
সুনীতার অবশ্য দাবি, তাঁর শরীর ভালোই আছে, তিনি ফিট।আমি ওজন ঝড়াইনি বরং আমার থাই, কোমর এবং শরীরের নিম্নাগে চর্বি বেড়ে গিয়েছে। আমি নিয়মিত স্কোয়াট করছি। অক্সিজেন, খাবার, জল আর জামাকাপড় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কার্গো ফ্লাইটে। এছাড়া স্পেস স্টেশনে এখন তাদের হাতেই ফলছে সবজি। ফলে খাবারের অভাব হওয়ার কোনও কারণ নেই। আরও চারমাসের পর্যাপ্ত খাবার মজুত রয়েছে। মহাকাশযানে চিকিৎসক রয়েছেন। মহাশূন্যে কৃষিকাজ নিয়ে সুনীতা আর বুচ এখন গবেষণায় ব্যস্ত। এখনও চার মাস তাঁদেরকে মহাকাশেই থাকতে হবে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে ফিরবেন দুই মহাকাশচারী।
