শান শেখ, ১২.০৩.২৪ সময়ঃ ০৩.১২
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ
প্রায় দুইবছর আগে তৈরি বাঁশের সেতু নড়বড় করছে। সেতুর বাঁশ গুলি খুলেও পড়ছে। কিন্তু তার উপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে দুটি গ্রামে প্রায় ১২০০ পরিবারের যাতায়াত। সরকারি ওই নদীঘাটের পারের কড়ি আবার আদায় করছে এক নাবালক। কর আদায় করলেও কোন রকম রসিদ তাকে দিতে হয় না। দির্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বাসিন্দারা বিপজ্জনক বাঁশের সেতুর বদলে নদীঘাটে একটি কজওয়ের দাবি করছেন। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর ১ ব্লকের কুয়ো নদীর কোল্লা গ্রামের কাছে।
ওই নদীঘাটের পশ্চিমে রয়েছে গড্ডা পঞ্চায়েতের কোল্লা ও চাঁদপুর গ্রাম। দুটি গ্রামে প্রায় ১২০০ পরিবার বসবাস করেন। দুটি গ্রামে রয়েছে পাঁচজন পঞ্চায়েত সদস্য। গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। আর নদীঘাটের পৃর্বে রয়েছে ভরতপুর ১ ব্লক থেকে থানা সহ বিভিন্ন সরকারি অফিস হাসপাতাল ইত্যাদি।
ওই দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের ভরতপুর আসতে হলে একমাত্র ওই বাঁশের সেতু পেরিয়ে আসতে হয়। এটা না করা হলে প্রায় ২৫ কিলোমিটার ঘুরপথ হয়ে আসতে হবে তাঁদের। তাই বাসিন্দারা দির্ঘদিন ধরে ওই নদীঘাটে একটি কজওয়ের দাবি করে আসছেন। যদিও সেই দাবি আজও পূরণ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বাঁশের সেতু পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
সেখানে গিয়ে দেখা গেল সেতুর পাশে একটি ছোট নৌকা জলে ডুবে রয়েছে। ভরা বর্ষায় ওই নৌকাতেই পারাপার করতে হয় তাঁদের। বছরের বাকি সময় ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সেতু। সেতুটি প্রায় ৭০ ফুট লম্বা ও চার ফুট চওড়া। একদিকে কেউ এলে অন্যদিকের সেতুর পাড়ে লোকজনকে অপেক্ষা করতে হয়। সেতু পেরোনোর সময় সেটি দুলতেই থাকছে। সঙ্গে থাকছে বাঁশের মোচর দেওয়ার আতঙ্কিত শব্দ। একটু অসাবধান হলেই সোজা নদীতে গিয়ে পড়তে হবে। প্রায় দুইবছর হল সেতুটি তৈরি হয়েছে। কিন্তু তৈরির পর কোনদিন এর সংস্কার হয়নি।
এদিকে সেতু পেরোনোর পর কোল্লা গ্রামের দিকে পারের করও দিতে হচ্ছে। সেই কর আদায় করছে এক নাবালক। কাবিরুল শেখ নামে ওই নাবালক বলে, বাইক নিয়ে গেলে ১০ টাকা ও শুধু মানুষ পেরোলে ৫ টাকা লাগে। তবে টাকা নিলেও কোন রসিদ আমাদের দিতে হয় না। ভ্যান কিম্বা গবাদি পশু সেতুর উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। ঘাট মালিকের এটাই নির্দেশ। ওই নাবালক জানায়,ঘাটমালিক মফিজুল শেখ,ব্যবসার কাজে অন্য রাজ্যে আছে। তাই আমাকে পাড়ের কড়ি আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছে। পঞ্চায়েত এসব জানে।
সেতুর পাশে দাঁড়িয়ে কোল্লা গ্রামের ব্যবসায়ী পতন হাজরা বলেন, এভাবেই নদী পেরিয়ে প্রায় ৭০ বছর কাটিয়ে গেলাম। বহুবছর ধরে এখানে একটি সাঁকোর দাবি করে আসছেন দুই গ্রামের লোকজন। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হলনা। ক্যামেরার সামনে মুখ না খুললেও এক বাসিন্দা জানান পারের টাকা নিলেও কোনদিন রসিদ আমাদের দেওয়া হয় না। চাইলে চোখরাঙানি দেখতে হয়। তাই সবকিছু চুপচাপ সহ্য করে চলেছি। এবিষয়ে স্থানীয় গড্ডা পঞ্চায়েত প্রধান গোলাপি বিবি বলেন, নদীরঘাটের এমন অবস্থা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
