আশিক এলাহী, ২২.০২.২৪ সময়ঃ ০৩.২৭
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ
জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের পর জাতীয় এসটি কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সন্দেশখালির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলেন। তাঁদের কাছে রাজনৈতিক নেতা সহ বিভিন্ন দিক থেকে ২৩টি অভিযোগ জমা পড়ল। এদিন তাঁদের দলের নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয় এসটি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অনন্ত নায়েক। গ্রামে ঘুরে নির্যাতিতাদের সঙ্গে কথা বলছেন এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সন্দেশখালি থেকে দিল্লিতে ফিরেই তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট জমা দিতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৫ তারিখ সন্দেশখালিতে এসেছিলেন জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের সদস্যরা। কমিশনের চেয়ারম্যান অরুণ হালদারের সামনেই শেখ শাহজাহান বাহিনীর অত্যাচারের করুণ কাহিনী তুলে ধরেছিলেন গ্রামের মহিলারা। এরপরই দিল্লিতে ফিরে রাইসিনা হিলে রিপোর্ট আকারে জমা দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসনের আর্জি জানান কমিশনের চেয়ারম্যান। একই দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মাও।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল ধামাখালি বাজারে এসে পৌঁছয়। সেখান থেকে ফেরিঘাটে লঞ্চে জলপথে নদীর ওপারে যান তাঁরা। এরপর একটি টোটোতে চেপে সন্দেশখালির গ্রামে প্রবেশ করেন কমিশনের সদস্যরা। সূত্রের খবর, এ দিন প্রথমেই তাঁরা যান সন্দেশখালির সিং পাড়ায়। সেখানে কয়েকজন আদিবাসী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশনের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে কোনও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কি না! ঘটে থাকলে সেটাও নথিভুক্ত করা হয় কমিশনের তরফে। সেখান থেকে বেরিয়ে কমিশনের সদস্যরা আসেন সর্দারপাড়াতে। সেখানেও একইভাবে আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, সন্দেশখালিতে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে চেয়ে বুধবারই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজিকে নোটিশ পাঠায় জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশন। নোটিশে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, সন্দেশখালিকাণ্ডে তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তিনদিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে। জবাব না মিলবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় জাতীয় এসটি কমিশনের তরফে। তারই মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্দেশখালি পৌঁছে গেলেন কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অনন্ত নায়েকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল।
