BANGLADESH LANGUAGE DAY- বাংলাদেশই হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শেকড়


সুপর্ণা দে, ২১.০২.২৪ সময়ঃ ০৩.১৫

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রতি বছরের মতো এই বছরও রাত ১২টা নাগাদ সম্পন্ন হল বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহবুদ্দিন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষা শহিদদের স্মৃতিতে পুস্পার্ঘ অর্পন করেন। শহিদবেদীকে আগে থেকেই রঙ ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিলো।

১৯৯৯ সালে নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়। এরপর ২০০০ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয় বাংলাদেশে। রাষ্ট্রসংঘে এই দিনটির প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল বাংলাদেশই। মাতৃভাষার জন্য তাদের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস স্মরণ করেই এই দিনের আয়োজন। সেই প্রস্তাব ‘গ্রহণ’ করেছিল অন্যান্য সদস্য দেশগুলি। তার ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দিতে হবে— এই দাবি থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। ১৯৫২ সালে আজকের দিনে আন্দোলনরত ছাত্র ও সমাজ কর্মীদের উপর বর্বর পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে রফিক, সালাম, আব্দুল জব্বার, শফিউল, সালাম, বরকত-সহ অনেক তরুণ শহিদ হন। এই দিনটি তাই ভাষা শহিদ দিবস হিসেবেও পরিচিত। এরপর পদ্মার উপর অনেক জল বয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের অক্লান্ত লড়াই ও আত্মত্যাগের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, যে দেশের ভিত্তি ছিল বাংলা ভাষা। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে নতুন বাংলাদেশ শপথ নেয় নিজের মাতৃভাষা বাংলার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মনে রেখে। ইতিহাসের পাতায় শুধু ভাষার জন্য আন্দোলন এবং নতুন দেশের জন্ম— এর দ্বিতীয় কোনও উদাহরণ পাওয়া অসম্ভব।

বাংলাদেশের বাঙালিদের ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। ১৮৮টি দেশ এই বিষয়টিকে সমর্থন জানালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস গৃহীত হয়। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৬৫তম অধিবেশনে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তাব আনে বাংলাদেশ, যা সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *