সুপর্ণা দে, ০৮,০২,২৪ সময়ঃ ০৩,৫১
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ লোকসভা নির্বাচনের আগে শেষ বাজেট অধিবেশন সম্পন্ন হল বৃহস্পতিবার। রাজ্য বিধানসভায় আগামী অর্থবর্ষ ২০২৪-২৫ বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। নির্বাচনের আগে একাধিক চমক দিলেন তিনি। বাজেট পেশের সময় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ রাজ্য সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাজেট অধিবেশন৷ উল্লেখ্য, কেন্দ্রের সাধারণ বাজেট বা অন্তবর্তীকালীন বাজেট পেশ হয়ে গিয়েছে। কি কি ছিলো বাজেটে, আসুন দেখে নিই-
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাড়ল বরাদ্দ। সাধারণের জন্য ৫০০ থেকে বেড়ে হল ১০০০ টাকা। এসসি এসটি ক্ষেত্রে তা ১ হাজার থেকে বেড়ে হল ১২০০।
আরও ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা রাজ্য বাজেটে। রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের বাজেটের ফারাক এখন ৩২ শতাংশ। মে মাস থেকে কার্যকর হবে এই ডিএ। রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ডিএ বেড়ে হল মোট ১৪ শতাংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩.৬৬.১১৬ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রেনড ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার্স স্কিম চালু হয়েছে। ৬টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক করিডোর গড়ে তোলা হচ্ছে। ডানকুনি থেকে খড়গপুর রঘুনাথপুর, কল্যাণী ডানকুনি, ডানকুনি তাজপুর, পানাগড় কোচবিহার, খড়গপুর মুর্শিদাবাদ।
বাজেট ঘাটতি সাত কোটি টাকা। রাজস্ব ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে।
কর্মশ্রী নতুন প্রকল্প চালু হচ্ছে বেকারদের জন্য। বাজেটে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ বিভাগে ব্যয় বরাদ্দ ২.২৭০.৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ। সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য ৫.৫৩৯.৬৫ কোটি টাকা।
১০০ দিনের শ্রমিকের বকেয়া মেটাতে রাজ্য বাজেটের ৩৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেন মমতা। জব কার্ড আছে এমন শ্রমিকরা পাবেন এই টাকা।
সমুদ্রসাথী প্রকল্পের ঘোষণা বাজেটে। পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৎস্যজীবীরা নানা প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ করেই সমুদ্রে যান। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুন মাস অবধি যেহেতু সমুদ্র যেতে নিষেধ থাকে, তাঁদের পেটেও টান পড়ে। তাই এই প্রকল্প। এর মাধ্যমে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই দুই মাস প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাবেন। এর ফলে প্রায় ২ লক্ষ মৎস্যজীবী উপকৃত হবেন। ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এই প্রকল্পে।
বাজেটে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা বাড়ল ১০০০ টাকা। এর জন্য ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। পাশাপাশি, এখন থেকে ২০ শতাংশ সিভিক ভলান্টিয়ার পুলিশে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও ঘোষণা করলেন অর্থ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী।
রাজ্যের দারিদ্রের হার কমছে বলে বাজেট পেশ করার সময় জানালেন চন্দ্রিমা। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর আগে, ৫৭.৬০ শতাংশ রাজ্যবাসী দারিদ্রসীমার নীচে ছিলেন। তৃণমূল সরকার আসার পর ২ কোটির বেশি মানুষের জীবিকা সংস্থান হয়েছে। ফলে দারিদ্রসীমার নীচের মানুষের সংখ্যা কমে ৮.৬০ শতাংশ হয়েছে বলে জানালেন অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বাজেট পড়ার মধ্যে ফের বিজেপি পরিষদীয় দল হট্টগোল শুরু করে। ফের উঠে দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী মমতা। দাঁড়িয়ে বিজেপির উদ্দেশে হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “আমাদের বাজেট পেশ করতে দিন। তারপর আপনারা সমালোচনা করুন। আর যদি ভাবেন, বাজেট পেশই করতে দেবেন না, তা হলে আমরাও সংসদে বাজেট পেশ করতে দেব না।”
