বাবন ধুঁয়া, ০৭.০২.২৪ সময়ঃ ০৬.০৮
দিন দর্পণ, নয়াদিল্লি লোকসভার পর এবার বাজেট অধিবেশনে রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ পেশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথম থেকেই নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসকে আক্রমণ শুরু করেন। তাঁর নিশানায় ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বিরোধীদের বক্তব্য, ইদানিং যে কোনও কর্মসূচিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের নাম উল্লেখ করে তাদের কটাক্ষ করা প্রায় অভ্যেসে পরিণত করে ফেলেছেন মোদি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে এদিন তাঁর করা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বড় মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ থেকে আপনার কাছে যে চ্যালেঞ্জ এসেছে, কংগ্রেস না কি ৪০ আসনও পাবে না। আমি প্রার্থনা করছি, যাতে আপনারা সেই সংখ্যাটা অন্তত পেরিয়ে যান।’
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই বাংলা থেকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন কংগ্রেসের উদ্দেশে। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস সারা ভারতে ৩০০ আসনে লড়ে ৪০টা পাবে কি না সন্দেহ আছে। এরপরেও এত অহংকার, এত অলঙ্কার।’ রাহুল গান্ধিকে আক্রমণ করে ত¥ার কটাক্ষ, ‘বাংলায় ন্যায় যাত্রা করছো কেন? বুকের পাটা থাকলে উত্তরপ্রদেশে গিয়ে করছো না কেন?রাজস্থান গিয়ে হারিয়ে এসো। মধ্যপ্রদেশে গিয়ে হারিয়ে এসো। রাজস্থানে গিয়ে হারিয়ে এসো।’
লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর পর রাজ্যসভায় এদিন মোদির টার্গেটে ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি বলেন, ‘খাড়গেজিকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। খুব মন দিয়ে তাঁরû কথা শুনেছি। এখন লোকসভায় মনোরঞ্জন কম পাওয়া যাচ্ছে, কারণ একজন অন্য ডিউটিতে আছেন। আপনি সেই ব্যবস্থা পূর্ণ করে দিয়েছেন। আমি মন দিয়ে আপনার কথা শুনেছি। অনেক শান্তিতে অনেকক্ষণ ধরে আপনি এই কথা বলেছেন। এত আজাদি পেলেন কীকরে এই কথা বলার? আসলে দু’জন স্পেশাল কমান্ডো থাকেন, তাঁরা ছিলেন না। তাই স্বাধীনতার ফায়দা তোলেন সম্মানীয় খাড়গেজি। ওইদিন, ‘অ্যায়সা মকা ফির কহা মিলেগা…’ এই গান শুনে খাড়গেজিও চার-ছয় মারছিলেন। এনডিএ-র জন্য ৪০০ আসনের আশীর্বাদ দিয়েছেন, সেটি আমি মাথায় তুলে রাখছি। আশীর্বাদ ফেরত নেবেন নাকি?’
মজার ছলেই এদিন কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কংগ্রেস পার্টি আউটডেটেড হয়ে গিয়েছে। দেখতে দেখতে এত বড়, ঐতিহ্যবাহী দলের এই পতন? সমবেদনা জানাচ্ছি। চোখে দেখা যায় না।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘কংগ্রেস ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিল। নেহেরু সংরক্ষণের বিরোধী ছিলেন। কংগ্রেস পিছিয়ে পড়া সমাজের বিরুদ্ধে। আজও ওরা আত্মনির্ভর ভারতের কথা মুখে আনে না। কংগ্রেস নেতাদের আচরণের কারণেই মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। যে কংগ্রেসের নেতা ও নীতির কোনও গ্যারান্টি নেই তারা আবার মোদিরûû গ্যারান্টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন!’
কংগ্রেসকে বিঁধতে গিয়ে হাত শিবিরের প্রধানমন্ত্রীদের মন্তব্যই তুলে ধরেন মোদি। রাজ্যসভায় দ¥াড়িয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মেনে নিয়েছিলেন যে দেশের অর্থনীতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতির কারণে জেরবার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, সরকারি সংস্থার অপব্যবহার হচ্ছে।’ নাম না করে আরেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির স্বীকারোক্তিও তুলে ধরেন মোদি। দেশের নানা প্রান্তে দুর্নীতি হচ্ছে বুঝেও কিছু করেনি কংগ্রেস, এই কথা শোনা যায় মোদির মুখে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির হাল ফেরাতে কোনও উদ্যোগ নেয়নি কংগ্রেস। কিন্তু গত ১০ বছরে কঠোর পরিশ্রম করে দেশকে আর্থিক সংকট থেকে বের করে এনেছে এই সরকার।
————–
