গোপাল সুন্দর বিশ্বাস, ০৬.০২.২৪ সময়ঃ ০৩.৪৫
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ শিক্ষকের বদলি রুখতে রনংদেহী মেজাজে দেখা গেলো অভিভাবকদের। চরমতম হেনস্থার শিকার হতে হল নতুন শিক্ষককে। ছোটো ছোটো পড়ুয়াদের হাতে গো-ব্যাক শ্লোগান লেখা পোস্টার তুলে দিয়েছিলেন অভিভাবকরাই। এমনকি এক অভিভাবককে হাতে চেন তালা নিয়েও দেখা যায়। ঘটনাটি নবদ্বীপের বকুলতলা ফীডার ইন্সটিটিউশন প্রাথমকি বিদ্যালয়ের। এনিয়ে অভিভাবকদের মত, নতুন শিক্ষকের কিছু খারাপ রেকর্ড রয়েছে, তাই তারা তাকে মেনে নিতে পারছে না। নতুন শিক্ষককে আটকানোর জন্য প্রশাসনের প্রায় সব স্তরেও গিয়েছেন অভিভাবকরা।
মঙ্গলবার ছিলো নতুন শিক্ষকের জয়েনিং ডেট। এদিন সকাল থেকে বিষয়টি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে, যে আসরে নামতে হয় পুলিশকে। বিষয়টা শুনতে অবাক লাগলেও সত্যিই একজন শিক্ষকের বদলি ঘিরে যে এতটা জটিল পরিস্থিতি তৈরী হয়, তা বোধ হয় কেউ ভাবতে পারে না।
বাধ্য হয়ে পুলিশি ঘেরাটোপে স্কুল থেকে বেড়িয়ে যান নতুন শিক্ষক। তাঁর কাছে বৈধ নিয়োগ পত্র থাকা সত্ত্বেও এভাবে হেনস্থার শিকার হতে হল। যদিও এই ঘটনা নিয়ে অনেক দিন ধরেই চাপানউতোর চলছিলো, এবং সেই সময় পুলিশকে কোনো সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায় নি। তাই পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনায় শিকেয় উঠেছে স্কুলের পঠন-পাঠন। এখন প্রশ্ন হল যে শিশুরা বিক্ষোভ বোঝে না, আন্দোলন বোঝে না, হাতে প্ল্যাকার্ড নেওয়ার মানে বোঝে না, এমনকি প্ল্যাকার্ডে যে দুটি ইংরেজি শব্দ লেখা রয়েছে, হয়তো তার মানেটাও বোঝে না, কেন লেখা হয় তাও জানে না। সেই নিস্পাপ শিশুদের হাতে এই ধরনের প্ল্যাকার্ড তুলে দেওয়া কি উচিত্ হয়েছে অভিভাবকদের? নাকি লেখাপড়াকে শিকেয় তুলে দিয়ে তাদের এক প্রকার এই বিক্ষোভে সামিল করা ঠিক হয়েছে অভিভাবকদের? নতুন শিক্ষক যেমনই হোক না কেন, শান্তিপূর্ণভাবেও তো বিষয়টিকে সামলানো যেত। শিশুরা নিস্পাপ। ফুলের মতো। যা শেখাবে, তাই শিখবে। অভিভাবক হয়ে কি তাদের হাতে এক প্রকার অস্ত্র তুলে দেওয়া হলো না? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকদের বিক্ষোভ নতুন কিছু নয়। তবে প্রশ্ন এই ধরনের বিক্ষোভ শিশুমনে কি প্রভাব ফেলল তা সময়ই বলবে।
