RAM MANDIR TREASURE CONTRO REMARKS- ‘জ্ঞানবাপী, শাহি ইদগাহ হিন্দুদের দেওয়া হলে কোনও মসজিদের দিকে তাকাব না’ মন্তব্য শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষের


বাবন ধুঁয়া, ০৫.০২.২৪ সময়ঃ ০৫.৩৯

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ

আদালতের নির্দেশ মেনে বাবরি মসজিদ বিতর্কের অবসান করে তৈরি হয়েছে রাম মন্দির। মহা ধূমধামে গত ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় উদ্বোধন হয়েছে রাম মন্দিরের। প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে রামলালার। আদালতে বিচারধীন জ্ঞানবাপী ও মথুরার শাহি ইদগাহ মামলা। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বিতর্কিত মন্তব্য শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজের গলায়। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘তিনটি মন্দির তৈরি হলে আমরা অন্য মসজিদের দিকে তাকাব না। কারণ আমাদের অতীতে নয়, ভবিষ্যতে বাঁচতে হবে। আমরা যদি এই তিনটি মন্দির (অযোধ্যা, জ্ঞানবাপী এবং কৃষ্ণ জন্মভূমি) তৈরি করে ফেলতে পারি তবে বাকি সব ভুলে যাব।’ কোষাধ্যক্ষের কথায়, ‘অন্য কোনও মসজিদের দিকে আর তাকানোর ইচ্ছা নেই। কারণ আমাদের এখন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে, অতীতের কথা ভাবলে চলবে না। দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়া উচিত। আমরা যদি জ্ঞানবাপী ও কৃষ্ণ জন্মভূমি শান্তিতে পেয়ে যাই তবে আমরা বাকি সবকিছুর বিষয়ে ভুলে যাব।’

পুনেতে রবিবার একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন গোবিন্দ মহারাজকে জিজ্ঞাসা করা হয় বেশিরভাগ মসজিদগুলি কি মন্দিরের উপর তৈরি হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজ বলেন, ‘মানুষকে ভালোবেসে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এইসব জায়গার জন্য একটা কথাও বলা যাবে না। সব জায়গাতেই কিছু বিবেকমান মানুষ রয়েছেন। সেক্ষেত্রে কমবেশি রয়েছে। পরিস্থিতি যেখানে যাই হোক না কেন, মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। কোনও ভাবেই দেশের শান্তি বিঘ্নিত হতে দেওয়া যাবে না।’

গোবিন্দ দেব গিরি জ্ঞানবাপী সম্পর্কে বলেন, ‘আমি মুসলমানদের কাছে হাত জোড় করে আবেদন করছি, জ্ঞানবাপী এবং কৃষ্ণ জন্মভূমি হিন্দুদের হাতে তুলে দেওয়া হোক। এ সবই হানাদাররা ভেঙে দিয়েছে। এগুলির জন্য আজও কষ্ট পায় ভারতীয়রা। এ কারণে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে এ দুর্ভোগের অবসান ঘটলে তা প্রকৃত অর্থেই ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’ শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ গিরি মহারাজের ৭৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তারই অঙ্গ হিসেবে পুনের আলন্দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই সাংবাদিক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি হিন্দুপক্ষের দাবি মেনে জ্ঞানবাপী মসজিদের একটি নির্দিষ্ট অংশে পুজো পাঠের অনুমতি দিয়েছিল আদালত। পরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই নিয়ে মামলা হয়। তবে পুজোর ওপর স্থগিতাদেশ দেয়নি উচ্চ আদালত। এরই মাঝে গত ১ ফেব্রুয়ারি জ্ঞানবাপীর বেসমেন্টে পুজোপাঠ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মুসলিম ল বোর্ড যে বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট তা বুঝিয়ে দিয়েছে। এই মামলায় হিন্দুপক্ষের অ্যাডভোকেট বিষ্ণু শংকর জৈন দাবি করেন, বারাণসীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ তৈরির আগে সেখানে ছিল একটি বিরাট হিন্দু মন্দির। আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা এএসআই রিপোর্ট দেখিয়ে এমনটা দাবি করেন তিনি। এএসআই-এর রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে, মসজিদ তৈরির জন্য ভেঙে ফেলা হয় মন্দিরটি। এমন কী আগের কাঠামোটা থেকে গিয়েছে এখনও।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *