MUSLIM DEVOTEES AT RAM MANDIR, হেঁটে রাম মন্দিরে ২৫০ মুসলিম ভক্ত


বাবন ধুঁয়া, ৩১.০১.২৪ সময়ঃ ০৫.৫৫

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ

প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ছে। প্রত্যেকদিন লাখ লাখ রামভক্ত দর্শনে পৌঁছচ্ছেন। কেবলমাত্র হিন্দু নয়, মুসলিমরাও পৌঁছে যাচ্ছেন রামলালার দর্শনে। এবার সবকরম কটাক্ষ ও বিপত্তি উপেক্ষা করে ২৫০ মুসলিম ভক্তরা হাজির হলেন বালক রাম মন্দিরে। কিন্তু তারপর কী ঘটল?

উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারি উত্তর প্রদেশের লখনউ থেকে শয়ে শয়ে মুসলিম অযোধ্যার রাম ম¨িরের উদ্দেশে রওনা দেন। জানা যায়, ৩০ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রায় ২৫০ মুসলিম দল বেঁধে অযোধ্যা রাম মন্দিরে পৌঁছে যান। এই গোটা ১৩৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে অতিক্রম করেন মুসলিম এই ভক্তরা। তাদের দাবি, ভগবান রাম তাদের পূর্বপুরুষ। তাই রামলালার দর্শন করতে চান সকলে। শুধু তাই নয়, এই মুসলিম ভক্তদের মুখে শোনা যায় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও।

মুসলিম সমাজের দাবি, ভগবান রাম তাদের বংশধর। রামকে তারা নিজেদের নবী বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে লখনউয়ের নাম পরিবর্তন করে লখনপুরী রাখার দাবি তোলেন। তাদের আরও বক্তব্য, ‘ভগবান শ্রীরাম একজন ক্ষত্রিয়। হিন্দু এবং মুসলিমদের গোত্র একই। আমরা ভগবান শ্রীরামের বংশধর। তাঁকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমাদের ধর্মও সনাতনী।’

উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় ধুমধাম করে রাম মন্দিরের উদ্বোধন হয়। রামলালা অর্থাৎ বালক রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেদিনের উৎসবে দেশ-বিদেশের প্রায় আট হাজার অতিথি আমন্ত্রিত ছিলেন। সেখানে দেখা যায় একজন ইমামকেও। উমর আহমেদ ইলয়াসির উপস্থিতি দৃষ্টিনন্দন হয়নি মুসলিম সমাজের একাংশের। তারা এই ইমামের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন। এমনকী তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনের এই প্রধান ইমাম। উমর আহমেদ ইলয়াসি জানিয়েছেন, ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করতে ষড়যন্ত্র করে তাঁর বিরুদ্ধে এই ফতোয়া জারি করেছে একটি দল। ফতোয়াতে এই ইমামকে ‘কাফির’ বা কাপুরুষ বলে তকমা দেওয়া হয়েছে। ইমাম বলেন, ‘আমি দেশের সম্প্রীতি রক্ষার্থে সেখানে গিয়েছিলাম। সেদিন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল, দু’টি ধর্মের বিশ্বাস আলাদা হতে পারে কিন্তু, মনুষ্যত্বই আমাদের এক করে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভারত ইসলামিক দেশ নয়। ফলে এইসব ফতোয়া এখানে চলবে না। আমি যে ভালোবাসা এবং সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা দিচ্ছি, তা কারও পছন্দ না হলে সে পাকিস্তানে চলে যেতে পারে। আমি কোনও ভুল করিনি। প্রাণ প্রতিষ্ঠা উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য আমি না তো ক্ষমা চাইব আর না আমার পদ থেকে ইস্তফা দেব।’

এই প্রথম কোনও ইমামের বিরুদ্ধেই ফতোয়া জারি হল ইসলাম ধর্মে। ইমাম উমর আহমেদ ইলয়াসি ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হয়েছেন। একটি এফআইআর-ও দায়ের করেছেন। পাশাপাশি গোটা বিষয়টি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও চিঠি লিখেছেন তিনি।

——————-


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *