বাবন ধুঁয়া, ৩১.০১.২৪ সময়ঃ ০৫.৩৩
দিন দর্পণ, নয়াদিল্লি, দিল্লির আবগারি নীতিকাণ্ডে আরও বিপাকে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এই নিয়ে পঞ্চম বার সমন পাঠানো হল তাঁকে। শুক্রবার হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে ২ নভেম্বর, ২১ ডিসেম্বর, ৩ জানুয়ারি, ১৩ জানুয়ারি সমন পাঠানো হয়েছিল কেজরিওয়ালকে। এ বারও তিনি হাজিরা না দিলে, ত¥াকে গ্রেফতারের পরোয়ানার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এর আগে চার বার সমন পেয়েও যাননি কেজরিওয়াল। মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা ভোটের প্রচারে থাকার কারণে প্রথম বার ইডির দফতরে হাজিরা দেননি তিনি। এর পর কখনও অন্য কাজ থাকার কথা, কখনও ১০ দিনের উপাসনায় যোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে সমন এড়িয়ে গিয়েছেন আম আদমি পার্টি (আপ) প্রধান। তিনি এও অভিযোগ করেছেন, ত¥াকে ‘বেআইনি ভাবে’ সমন পাঠানো হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এটা ‘কৌশল’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। ইডির পদক্ষেপের নেপথ্যে ‘রাজনৈতিক প্ররোচনা’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। আপ অভিযোগ করেছে, তাদের নেতা যাতে লোকসভা ভোটের প্রচারে যেতে না পারেন, সে কারণে এ সব করা হচ্ছে।
আম আদমি পার্টি অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, শুধুমাত্র কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যেই বারবার তলব করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। কেজরিওয়াল নিজে বলছেন, ইডি তাঁকে যে সমন পাঠাচ্ছে সেটার আইনি বৈধতা নেই। এই বেআইনি সমনে হাজিরা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আপ সূত্রের দাবি, ইডির পঞ্চম সমনেও হাজিরা দেবেন না দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এবারেও হাজিরা এড়াবেন তিনি। ইন্ডিয়া জোটের তৎপরতার মাঝে কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি নিয়ে আপের অন্দরে চোরাস্রোত বইছে। কিন্তু কেজরিওয়াল এসবের মধ্যেও সমন উপেক্ষা করে চলেছেন।
গত বছর এপ্রিলে এই মামলায় কেজরিওয়ালকে ন’ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিবিআই। যদিও এই মামলায় তিনি অভিযুক্ত নন। সে সময় কেজরিওয়াল বলেছিলেন, ‘সিবিআই মোট ৫৬টি প্রশ্ন করেছে। সব কিছু ভুয়ো। ভুয়ো মামলা। আমি নিশ্চিত, আমাদের বিরুদ্ধে ওদের কোনও প্রমাণ নেই।’ প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত আপের দুই প্রবীণ নেতা দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া এবং আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংহ তিহাড়ে রয়েছেন। অভিযোগ, দিল্লি সরকারের ২০২১-২২ সালের আবগারি নীতি বেশ কিছু মদ ব্যবসায়ীকে সুবিধা করে দিচ্ছিল। এই নীতি প্রণয়নের জন্য যারা ঘুষ দিয়েছিলেন, তাদের সুবিধা করে দিচ্ছিল। আপ সরকার সেই অভিযোগ মানেনি। সেই নীতি পরে খারিজ করা হয়। সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন তৎকালীন লেফটেনান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনা।
তবে কেজরিওয়াল একা নন। এই মুহূর্তে ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা ইডির র্যাডারে। সেই তালিকায় রয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। বিহারের সদ্য প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবকেও একাধিকবার তলব করা হয়েছে। র্যাডারে রয়েছেন লালুপ্রসাদ যাদবও। সব মিলিয়ে লোকসভার আগে ইন্ডিয়ার উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
