mamata banerjee- কোচবিহারে একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস এবং সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে


সুপর্ণা দে, ২৯.০১.২৪ সময়ঃ ১২.২২

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ গতকাল থেকে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ কোচবিহারে প্রশাসনিক সভা সারলেন তিনি। সভা শুরুর আগে তিনি সেখানকার মানুষদের হাতে সরকারি সুবিধা নিজে হাতে তুলে দেন। এদিন তাঁকেও কোচবিহারের রাজবাড়ির তরফে সম্মান প্রদান করা হয়। বংশীবদন বর্মন এই সম্মান তুলে দেন। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব ভগবতী প্রসাদ গোপালিকা সহ একাধিক প্রশাসনিক স্তরে উচ্চ পদস্থ কর্তারা।

সরাসরি না বললেও কার্যত ঘুরিয়ে রামমন্দির নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ নিজের বক্তব্যের মাধ্য়মে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে রামকে বিজেপি মানুষ অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে ৷ তিনি বলেন, ‘‘ওরা যাকে দেবতা মানবে, আমাকে তাকেই মানতে হবে ৷’’ কিন্তু বিজেপির এই চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি তিনি মানবেন না বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা করতে বাধ্য নই ৷’’

সোমবার কোচবিহারে প্রশাসনিক সভা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷ সেই সভার মঞ্চ থেকে তাঁর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক উদাহরণ তুলে ধরেন ৷ এ রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের মানোন্নয়নে যে তাঁর সরকার অর্থ খরচ করেছে, সেই কথাও তিনি উল্লেখ করেন ৷ তাছাড়া একাধিক ইস্যুতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে নিশানা করেন ৷

তার মধ্যেই একাধিকবার তিনি রামমন্দিরের প্রসঙ্গ তুলেছেন ৷ তবে তাঁর মুখে একবার রামের নাম বা রামমন্দিরের নাম শোনা যায়নি ৷ কিন্তু তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে যে তিনি রামের নামে বিজেপির প্রচারকেই নিশানা করছেন ৷ এই প্রসঙ্গ যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তোলেন, সেই সময় প্রথমে তিনি বলেন, ‘‘ওরা যেটা চাপিয়ে দেবে, সেটাই হবে দেবতা ! ধর্ম যার যার, উৎসব সবার ৷ আমাদের মা-বাবারা শিখিয়েছে সবাইকে নিয়ে চলতে হবে ৷’’

এর পর অন্য ইস্যুতে কেন্দ্র ও বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি ৷ তার পর আবার রাম-প্রসঙ্গে ফিরে আসেন ৷ মমতা বলেন, ‘‘ওরা যাকে দেবতা মানবে, আমাকে তাকেই মানতে হবে ! এটা করতে বাধ্য নই ৷ আমি রামায়ণ মানি, ওটা আমাদের… ৷’’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘‘কোরান মানি, বাইবেল মানি, গ্রন্থসাহেব মানি, মাঝের থান মানি, জাহের থান মানি, তফসিলি যে সমস্ত জায়গাগুলো আছে, তাও মানি ৷’’

এর পর বিজেপির বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সম্প্রীতি চায় না ৷ হিন্দু-মুসলিম-শিখ-ক্রিশ্চান মিছিল করলে, তাতে বাধা দেয় ৷ তার পর তিনি আরও বলেন, ‘‘লজ্জা নেই ওগুলোর৷ কাল (রবিবার) আমি রাস্তা দিয়ে আসছিলাম, সাত-আটজনকে টাকা দিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ৷ পার্টির স্লোগান ভুলে গিয়েছে ৷’’

এই ইস্যুতে তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘সীতা মায়ের নাম ভুলে গিয়েছে ৷ সীতার নাম বলে না ৷ কৌশল্যা মা জন্ম দিয়েছিলেন, তাঁর নাম বলে না ৷ মা ছাড়া সন্তানের জন্ম হয় কোথা থেকে ? বউ ছাড়া স্বামীকে এগিয়ে দেয় কে ? সীতার অগ্নিপরীক্ষা মনে নেই ? পাতালে প্রবেশ মনে নেই ? বনবাস মনে নেই ? তাই মনে রাখবেন আমার মা-বোনেরা সমাজের গর্ব ? ওরা রান্নাও করবে ৷ প্রয়োজন হলে ওরা যা করবার তাই করবে ৷ দেশকে রক্ষা করবে৷ সমাজকে রক্ষা করবে ৷’’ একই সঙ্গে তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার ৷


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *