BILKIS BANO CASE- ৩০ বছরের আগে মুক্তি নয় বিলকিস অভিযুক্তদের


বাবন ধুঁয়া, ১০.০১.২৪ সময়ঃ ৩.১৩

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বিলকিস বানোর ধর্ষকদের জেলে ফেরানোর রায় ঘোষণার পরে নিগৃহীতা বলেছিলেন, ‘জেলে না ঢোকা পর্যন্ত শান্তি নেই।’ আবার অনেকেই মনে করেছিলেন, মহারাষ্ট্র যেহেতু বিজেপি-শিবসেনা (শিন্ডে) শাসিত রাজ্য তাই এই অপরাধীরা সেই রাজ্যের কাছে সাজা মকুবের আবেদন করলে সহজেই তা মঞ্জুর হয়ে যেতে পারে এবং তা লোকসভা নির্বাচনের আগেই। কাজেই একটা আশঙ্কা থেকেই গিয়েছিল, এই ঘৃণ্য অপরাধীরা যে আমৃত্যু জেলেই থাকবে এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারও এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মহারাষ্ট্র সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছে আশা করি তা মাথায় রেখেই অপরাধীদের রেমিশন বা আগাম মুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।’সোমবারের রায়ে বিচারপতি বিভি নাগরত্ন ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ বলেছিল, ‘এই রেমিশনের আবেদন যদি মহারাষ্ট্র সরকার বিবেচনা করত তা হলে তারা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই কোর্টের প্রিসাইডিং জাজের মত নেওয়ার কথা মাথায় রাখত। ২০০৮ সালের ১১ এপ্রিল যে সরকারি রেজোলিউশন গ্রহণ করা হয়েছিল তা-ও রেমিশনের আর্জি বিবেচনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতো।’২০০৮ সালের মহারাষ্ট্রের ওই রেজোলিউশনে কী বলা হয়েছে? সেখানে স্পষ্ট বলা রয়েছে, আগাম মুক্তির আগে কোনও অপরাধীর ১৮ বছর জেল খাটা বাধ্যতামূলক। কাজেই ২০২৬-এর আগে আপিল করেও কোনও লাভ হবে না ওই ১১ জন ধর্ষক-খুনির। এর চেয়েও বড় কথা, ওই রেজোলিউশনেই আলাদা ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহিলাদের বিরুদ্ধে যদি ব্যতিক্রমী হিংসা ঘটানোয় কেউ অপরাধী সাব্যস্ত হয়, সে ক্ষেত্রে তাকে অন্তত ২৮ বছর জেলে থাকতে হবে আগাম মুক্তির আবেদন করার আগে।পরের ধারাতেই এই ১১ জন ধর্ষক-খুনির ‘আগাম মুক্তি’ বিবেচনা হওয়ার কথা, অন্তত এমনই মনে করছেন আইনি বিশ্লেষকরা। এর অর্থ এই অপরাধীদের আরও অন্তত ১২ বছর অর্থাৎ ২০৩৬ সাল পর্যন্ত জেলে থাকতেই হবে। তার পরেই তারা আগাম মুক্তির আবেদন জানাতে পারবে।আবার ১৯৯২ সালের মহারাষ্ট্র সরকারের ‘রেমিশন আইন’ও যদি প্রয়োগ করা হয় সে ক্ষেত্রেও ২০৩০-এর আগে এই অপরাধীরা আগাম মুক্তির আপিল করতে পারবে না। কারণ ১৯৯২-এর ক্ষেত্রে যৌন হিংসা সংক্রান্ত খুনের জন্য ২২ বছর জেলে থাকতেই হবে। আর সেই অপরাধ যদি ‘বিরল, বিকৃত বা ব্যতিক্রমী’ হয় সে সব ক্ষেত্রে ন্যূনতম কারাবাস ২৮ বছরও হতে পারে। কাজেই বিলকিসের ধর্ষকরা ও তাঁর শিশুকন্যা-সহ আরও ৭ জনের খুনিদের ২০৩০-এর আগে আইন অনুযায়ী মুক্তি পাওয়ার কথা নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *