PUNISHMENT FOR  OFFERING  NAMAZ- যোগী রাজ্যে নামায পাঠের শাস্তি, আইন লঙ্ঘনে গ্রেফতার যুবক


বাবন ধুঁয়া, ০৮.০১.২৪ সময়ঃ ৬.৩১

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ মন্দির-মসজিদ বিতর্কের মাঝেই ফের খবরের শিরোনামে যোগী রাজ্য। বারাণসী জেলা আদালত গত শনিবার জ্ঞানবাপী মসজিদে ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’র রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার আবেদন সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা পিছিয়ে দেয়। জেলা বিচারক অজয়কুমার বিশ্বেস আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এ সংক্রান্ত রায় সংরক্ষিত রাখার কথা ঘোষণা করেছেন। এরই মাঝে প্রকাশ্যে এসেছে আরও একটি খবর। উত্তর প্রদেশের শামলি জেলায় ২৫০ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ এক মসজিদের সামনে আযান দেওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয়েছে এক যুবককে। ওই যুবক জালালাবাদের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ওমর কুরেশি আহাতা নামে ওই যুবক গৌসগড় গ্রামের ওই মসজিদের সামনে আযান দেন। গ্রামের প্রধান নীরজ কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে কুরেশিকে শনিবার গ্রেফতার করা হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৫ (২) ধারার অধীনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিংশ দশকের গোড়ার দিকে তৈরি হওয়া এক জরাজীর্ণ মন্দিরের সামনে গিয়ে প্রার্থনার চেষ্টা করছিলেন ওই যুবক। ওই মসজিদটি বহুকাল ধরেই অব্যবহৃত। অব্যবহৃত স্থানে গিয়ে প্রার্থনার চেষ্টা করায় তিনি ১৯৪০ সালের ব্রিটিশ আদেশ লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ। ওই মসজিদে আযানের একটি ভিডিয়ো করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেছিলেন ওই যুবক। অবশ্য, দিন দর্পণ সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি।

উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের আদেশ অনুযায়ী, শামলি মসজিদে নমাযের অনুমতি নেই। পুলিশের কথায়, যদিও কাঠামোটির সামান্যতম অস্তিত্ব রয়েছে, তবে বেশির ভাগটাই আজ ধ্বংসস্তূপের পরিণত হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ আজও বিদ্যমান। হিন্দুরা এটির সঙ্গে মনোহর রাজাদের যোগের কথা বলে থাকেন। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই কাঠামোটিকে মসজিদ বলে এখনওবিশ্বাস করেন।

সোশিও-কালচারাল গ্রুপ মনোহর খেদা ফোর্ট কল্যাণ সমিতির সেক্রেটারির প্রতাপ সিংয়ের কথায়, ‘এই অঞ্চলটি ১৩৫০ সাল মনোহর ফোর্টের একটি অংশ ছিল। মনোহর খেদার হিন্দু রাজারা এক সময় এখানে শাসন করতেন। পরে মুঘলরা এখানে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করে। নজিব-উদ-দাউলার প্রভাবেই এই অংশ নিজেদের হেফাজতে নেয় মুঘলরা। তখন এটি একটি মসজিদে পরিণত হয়। তবে আজ আর এখানে কোনও মুসলিম পরিবার বাস করে না।’

প্রতাপের দাবি, ব্রিটিশ শাসকালে এখানে প্রার্থনা শুর করা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেসময় বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের দড়ি টানাটানি চরমে পৌঁছয়। তৈরি হয় চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি। উত্তেজনা থামাতে ১৯৪০ সালে এনিয়ে কথা বলেন তৎকালীন জেলাশাসক ও জাসমৌর রিয়াসাতের মহারাজা। দুই পক্ষের কথোপকথোনে শেষমেশ একটি রফাসূত্র বের হয়। ব্রিটিশরা এই জায়গা নিয়ে একটি অর্ডার পাশ করে। সেই সময় ব্রিটিশ অর্ডারে বলা হয়, এই কাঠামোটি হিন্দুরাও ভাঙতে পারবে না। মুসলিমরাও এখানে এসে প্রার্থনা করতে পারবে না। স্থানীয়দের কথায়, মুঘল আমলে এখানে শাসন করতেন গুলাম কাদির। কাদির ছিলেন নজিব-উল-দৌলার নাতি, তিনি ভারতে নজিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এমনই দাবি করা হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *