বাবন ধুঁয়া, ০৮.০১.২৪ সময়ঃ ৬.১৮
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ হজ শুরু হওয়ার আগে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সুখবর। ভারত থেকে আরও বেশি সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ যাতে হজে যেতে পারেন, তারজন্য উদ্যোগ নিল মোদি সরকার। সৌদি আরবের সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, দেড় লাখের বেশি মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ যেতে পারবেন হজে।
চলতি বছরে লোকসভা ভোট। হিন্দু ভোট নিয়ে চিন্তা না থাকলেও, অধিকাংশ রাজ্যেই মুসলিম ভোটারদের মন এখনও জয় করতে পারেনি মোদি সরকার। অন্তত এমনই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে দক্ষিণ ভারতে। সংখ্যালঘু ভোটারদের মন জয় করতেই হজযাত্রীদের কোটা বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের এই সক্রিয়তা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বর্তমানে সৌদি আরব সফর করেছেন সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। হজ নিয়ে জেড্ডায় সৌদির হজ সংক্রান্ত মন্ত্রকের মন্ত্রী তৌফিক বিন ফাওজানের সাথে একটি বৈঠক করেছেন তিনি। সেই বৈঠকের পর একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুসারে, ভারত থেকে চলতি বছরে ১ লক্ষ ৭৫ হাজারের বেশি মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ হজে যেতে পারবেন।
মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১ লাখ ৪০ হাজার মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা ভারত থেকে হজে যেতে পারতেন। এবার থেকে কোটা বৃদ্ধি পেয়ে হল ১ লাখ ৭৫ হাজার। এতে ধর্মপ্রাণ মানুষরা উপকৃত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে যারা হজে যেতে ইচ্ছুক, গ্রুপ অপরেটরদের মাধ্যমে যেতে পারবেন বলে মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে।
২০২৪ সালে হজযাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে ভারত সরকারের চুক্তির কথা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেছেন স্মৃতি ইরানি। সেই সঙ্গে ভারত থেকে যাওয়া যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেছেন। এরই পাশাপাশি হজযাত্রীদের তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রশংসা সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা করেছেন বলেও দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী।
ভারত থেকে যাত্রী কোটা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হজে যাতে অধিক সংখ্যক মহিলা যেতে পারেন, তারজন্য কেন্দ্র উৎসাহিত করবে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। স্মৃতি ইরানি আরও জানিয়েছেন, শুধু যাত্রী কোটা বৃদ্ধি নয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এর মধ্যে চিকিৎসা সুবিধার উপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। চুক্তির ফলে ভারত ও সৌদি আরবের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হল বলে মনে করছেন স্মৃতি।
