দিন দর্পণ, জেলবন্দি থাকা সঞ্জয় সিংকেই ফের রাজ্যসভায় মনোয়ন দিল আম আদমি পার্টি (আপ)। সেই সঙ্গে টিকিট দেওয়া হয়েছে দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়ালকেও। চলতি মাসেই রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে সঞ্জয়ের মেয়াদ ফুরাবে। তবে জেলবন্দি নেতাকেই ফের রাজ্যসভায় প্রার্থী করছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। ইতিমধ্যেই সঞ্জয়কে মনোনয়ন জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
আবগারি দুর্নীতির অভিযোগে অক্টোবর মাসে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দিল্লির বেশ কিছু মদ প্রস্তুতকারক সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই বিশেষ নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেখানেই আর্থিক তছরুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আপ সাংসদ। আবগারি দুর্নীতি মামলায় একাধিকবার জামিনের আবেদনও করেছেন তিনি। কিন্তু দুমাসের বেশি কেটে গেলেও জেলেই বন্দি রয়েছেন আপ সাংসদ। আগামী ২৭ জানুয়ারি সাংসদ হিসাবে তাঁর মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
এহেন পরিস্থিতিতে ফের রাজ্যসভার সাংসদ পদে মনোনয়ন দেওয়া হল সঞ্জয় সিংকে। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, জেলবন্দি থাকলেও মনোনয়ন জমা দেওয়ার সমস্ত ফর্ম ও নথিপত্রে সই করতে পারবেন আপ সাংসদ। আধঘণ্টার জন্য নির্বাচনী পরামর্শদাতাদের সঙ্গে দেখাও করতে পারেন তিনি। আগামী ৯ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে প্রার্থীদের।
সঞ্জয় সিংয়ের পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে মনোয়ন দেওয়া হয়েছে স্বাতী মালিওয়ালকে। রাজনীতির ময়দানে এই প্রথমবার পা রাখতে চলেছেন দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান। উল্লেখ্য, নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নানা বিতর্কিত ঘটনাতেও সরব হতে দেখা গিয়েছে স্বাতীকে। এবার জীবনের নয়া ইনিংস শুরু করবেন তিনি।
চলতি বছর লোকসভা নির্বাচন। তার আগে চলতি মাসেই রয়েছে রাজ্যসভার নির্বাচন। এবারে রাজ্যসভার ৬৮ জন সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। যার মধ্যে আম আদমি পার্টি-র ৩ সাংসদওরয়েছেন। তাঁদের মধ্যেই দুজনকে আপ পুনরায় মনোনয়ন দিলেও সুশীল কুমার সক্রিয়ভাবে হরিয়ানার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সেজন্যই সুশীল কুমারের জায়গায় স্বাতী মালিওয়ালের নাম মনোনীত করেছে আপ।
স্বাতী মালিওয়াল সমাজকর্মী হিসাবেই তাঁর কেরিয়ার শুরু করেন। তারপর আইনজীবী হিসাবে মহিলাদের অধিকার রক্ষা ও সমাজের বিভিন্ন জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে তাঁকে সক্রিয়ভাবে লড়াই করতে দেখা যায়। মহিলাদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবং লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে একাধিক আন্দোলনেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। এরপর ২০১৫ সালে দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসাবে নিযুক্ত হন স্বাতী মালিওয়াল। দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি দিল্লিতে অ্যাসিড হামলা, যৌন নিগ্রহ এবং মহিলাদের সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেন। এবার সংসদে তিনি কী ভূমিকা নেন, সাংসদ হিসাবে মহিলাদের অধিকার ও সুরক্ষা রক্ষায় স্বাতী মালিওয়াল কী পদক্ষেপ করেন, সেটাই দেখার।
