দিন দর্পণ: কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম দিনে পড়েছে ২৩টি উইকেট। একদিনে এতগুলো উইকেট পতন দেখে রীতিমতো বিস্মিত মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেণ্ডুলকর। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখলেন, ‘২৪-এর ক্রিকেটের শুরুতে একদিনেই পড়ল ২৩ উইকেট। আমি বিমানে যখন উঠি, তখন দক্ষিণ আফ্রিকা অল আউট হয়ে গিয়েছিল। বাড়িতে ঢুকে টিভি খুলে দেখি দক্ষিণ আফ্রিকা তিন উইকেট পড়ে গেছে। আমি তাহলে কী মিস করলাম?’
টেস্টের একদিনে ২৩ উইকেট পতন অন্যরকম শোনায়। এই টেস্ট ম্যাচ যদি বিদেশের মাটিতে না হয়ে এদেশের মাটিতে হতো, তাহলে তো উইকেট নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করত।
দ্বিতীয় দিনেও অবশ্য প্রোটিয়া ব্রিগেডের উইকেট পতন জারি রয়েছে। ভারতীয় বোলারদের দাপট দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাসকর। ভারতীয় পেস বোলারদের এই রমরমা দেখে সানি ভাই কপিলদেবকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। প্রথম দিন মহম্মদ সিরাজ ৬ উইকেট নেন। তার পরই লিটল মাস্টারকে বলতে শোনা গিয়েছে, সিরাজের এহেন বিস্ফোরণের পিছনে কপিলের অবদান রয়েছে।
প্রথম দিন ২৩ উইকেট পড়ার পরেই কাঠগড়ায় নিউল্যান্ডসের উইকেট। পিচ দেখে অবাক দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ডিন এলগার ও ব্যাটিং পরামর্শদাতা অ্যাশওয়েল প্রিন্স। নিউল্যান্ডসে প্রথম দিনে পিচ যে এত দ্রুত গতির হয় সেটা ভাবতেই পারছেন না তাঁরা।
প্রথম দিনের শেষে এলগার বলেন, ‘নিউল্যান্ডসের পিচ সাধারণত একটু মন্থর হয়। ব্যাটারদের খুব একটা সমস্যা হয় না। খেলা যত গড়ায় পিচ তত দ্রুত হয়। কিন্তু এই টেস্টে উল্টো ঘটনা দেখা যাচ্ছে।’
নিউল্যান্ডস প্রিন্সের ঘরের মাঠ। এই পিচে অনেক খেলেছেন তিনি। তিনি এ রকম পিচ আগে দেখেননি। প্রিন্স বলেন, ‘প্রথম দিনে এত দ্রুত পিচ দেখিনি। ব্যাটারদের দ্রুত পিচে খেলতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তখনই যখন বাউন্স সমান থাকবে। এখানে সেটা দেখা যাচ্ছে না। কোনও বল লাফাচ্ছে। আবার কোনও বল নিচু হচ্ছে। তাই ব্যাটারদের সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি পিচে বল পড়ে কখনও ভিতরে ঢুকছে। কখনও বাইরের দিকে যাচ্ছে। এই পিচে খেলা কঠিন।’
কেপ টাউনের এই মাঠে ১৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন এলগার। তাঁর মতে, বাইরে থেকে পিচ দেখে বোঝা যাচ্ছে না যে খেলা এতটা কঠিন। বলেন, ‘খালি চোখে দেখে পিচ খারাপ লাগছে না। আমি আগে যখন খেলেছি তখন ব্যাটারদের খেলতে সমস্যা হত না। দক্ষিণ আফ্রিকার এই মাঠে ব্যাটারেরা খেলতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু এ বারের পিচে সেটা হচ্ছে না।’
