বাবন ধুঁয়া ০৩.০১.২৪ সময়ঃ ৪.৫১
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ হিন্ডেনবার্গ মামলায় গৌতম আদানির সংস্থার ভবিষ্যতের রাশ রইল সেবির হাতেই। বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। গত নভেম্বর মাসে আদানি-হিন্ডেনবার্গ কাণ্ডের শুনানি শেষ হলেও, রায় ঘোষণা সংরক্ষিত করেছিল দেশের শীর্ষ আদালত।
রায় ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ জানিয়েছে, আদানি-হিন্ডেনবার্গ কাণ্ডে তদন্ত শুরু করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া বা সেবি। তাদের সেই তদন্তের উপর হস্তক্ষেপের কোনও ইচ্ছা নেই সুপ্রিম কোর্টের। সেই সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছে নির্দেশ। শর্ট সেলিংয়ের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সেবিকে হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে আইনের কোনও লঙ্ঘন হয়েছে কীনা, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
রায়ে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘দায়ের করা পিটিশনগুলিতে পর্যাপ্ত গবেষণার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অযাচাইকৃত উপকরণের উপর ভিত্তি করে পিটিশনগুলি দায়ের করা হয়েছে বলে মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট। হস্তক্ষেপ করা হলে, জনস্বার্থের বিপরীত হতে পারে বলেও করা হয়েছে আশঙ্কা।’
রায় দিতে গিয়ে শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং সেবিকে আদালত নিযুক্ত প্যানেলের সুপারিশের ভিত্তিতে কাজ করার কথা বিবেচনা করতে হবে। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ করার জন্য সেবিকে দেওয়া হয়েছে নির্দেশ।
এদিন শীর্ষ আদালত আরও জানায়, ২২টি বিষয়ের মধ্যে ২০টি তদন্তই শেষ করেছে সেবি। বাকি দুই তদন্ত আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। তাই এখনই সিট গঠন করে সেবি-র হাত থেকে তদন্তভার স্থানান্তর করার কোনও কারণ নেই। এই রায়ের পর কার্যত স্বস্তির সুর গৌতম আদানির গলায়। তিনি বলছেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে। যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এভাবেই ভারতের উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাব।’
এর আগে গত ২৪ নভেম্বর আদানি-হিন্ডেনবার্গ কাণ্ডে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল। শুনানি শেষ হলেও রায় সংরক্ষিত রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সময় প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের মতো একটি বাজার সমীক্ষা সংস্থায় প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে সেবি বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করার ভাবনা ঠিক নয়। শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণে নরেন্দ্র মোদি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি গৌতম আদানিকে দিয়েছিল স্বস্তি।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে আমেরিকার শেয়ার বিশ্লেষক সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। তাতে দাবি করা হয়েছিল, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কারচুপি করে নিজেদের নথিভুক্ত সংস্থাগুলির শেয়ার দর বাড়িয়েছে মোদি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি গৌতম আদানি।
সেবির বিধিকে ফাঁকি দিতে শেয়ার কিনেছিল তারা। ভুঁইফোঁড় বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে এই শেয়ার কেনা হয়েছিল বলেও দাবি করেছিল মার্কিন সংস্থাটি। এরপরেই ঘটনায় হস্তক্ষেপ দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়েছিল মামলা।
