বাবন ধুঁয়া, ০২.০১.২৪ সময়ঃ ৬.৩৩
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ
পারিবারিক বিবাদ। স্বামী এবং ভাসুরকে খুন করে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন এক মহিলা। যে দেশি পিস্তল দিয়ে খুন করেছেন, থানায় জমা করেছেন সেটিও। মধ্যপ্রদেশের উজ্জ্বয়িনীর ঘটনা। বাদনগরের ইঙ্গোরিয়া থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন ওই মহিলা।
থানায় পৌঁছেই সে বলেছিল, ‘স্বামী আর ভাসুরকে খুন করে এসেছি, গিয়ে লাশ তুলে নিন।’ একথা শুনে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন উপস্থিত পুলিশকর্মীরা। বছরের শুরুতেই জোড়া খুনের মামলা দায়ের হল মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ইঙ্গোরিয়া গ্রামে। ইঙ্গোরিয়া থানার ইনচার্জ চন্দ্রিকা সিং যাদব জানিয়েছেন, এই গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ৩৫ বছরের সবিতার বিরুদ্ধে তাঁর স্বামী ৪১ বছরের রাধেশ্যাম এবং তাঁর ভাসুর ৪৭ বছরের দীনেশকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
থানার পুলিশ অফিসার চন্দ্রিকা আরও জানিয়েছেন, রাধেশ্যামের পাশেই ধীরজের বাড়ি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে রাধেশ্যামের। ধীরজকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিজের বাড়ির সামনের উঠোনে পুজো করছিলেন ধীরজ। সবিতা প্রথমে সেখানে গিয়ে তাঁর মাথা এবং কাঁধ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এর পর বাড়িতে ফিরে এসে ঘুমন্ত স্বামীর কান লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। জল্পনা শুরু হয়, ধীরজের স্ত্রী, ছেলেকেও গুলি করেছেন সবিতা। যদিও পুলিশের তরফে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ আধিকারিক চন্দ্রিকা জানিয়েছেন, শূন্যেও গুলি ছুড়েছিলেন সবিতা। কেন গুলি করেছিলেন, সেই নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। জেরা করা হচ্ছে সবিতাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাধেশ্যাম মদ্যপ ছিলেন। ঝামেলা হলে স্ত্রীর বিরুদ্ধে গিয়ে দাদা ধীরজের কাছে অভিযোগ জানাতেন এবং আশ্রয় নিতেন। ধীরজের বেআইনি অস্ত্র চোরাচালানের কারবার ছিল। সবিতা এবং রাধেশ্যামের তিন সন্তানও রয়েছে।
সবিতার অভিযোগ, বছরের প্রথম দিন সকালেও তার স্বামী তাকে গালিগালাজ করতে শুরু করেছিল। প্রতিদিন একই ঘটনা পুনররাবৃত্তিতে বিরক্ত হয়ে খাটের নীচ থেকে রিভলভার বের করেছিল সবিতা। এরপর, প্রথমে ভাসুর এবং পরে স্বামীকে গুলি করে সে। সবিতার দাবি, তার দুই মেয়ে ও এক ছেলের ভবিষ্যতের স্বার্থেই সে এই অপরাধ করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নীতীশ ভার্গব জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই ওই মহিলা এই জোড়া খুন করেছেন বলে মনে হচ্ছে। অভিযুক্ত মহিলা খুনের অস্ত্র-সহ থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। ফরেন্সিক ল্যাবের দল ঘটনাস্থলে তদন্ত করে সূত্র সংগ্রহ করছে। এই সকল তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
