ISRO NEW LAUNCH- ইসরোর মুকুটে নতুন পালক জুড়ল, সফল উত্ক্ষেপন এক্সপোস্যাটের


বাবন ধুঁয়া, ০১.০১.২৪ সময়ঃ ৬.৪৮

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্ক, বেঙ্গালুরুঃ নতুন বছরে ইসরোর মুকুটে জুড়ল নতুন পালক। সফল ভাবে উৎক্ষেপণ হয়েছে এক্সপোস্যাট স্যাটেলাইটের। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সফল ভাবে এই কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা। কৃষ্ণ গহ্বর সংক্রান্ত একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে এই স্যাটেলাইট।

সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তরফে উৎক্ষেপণ করা হল প্রথম এক্স-রে পোলারিমিটার সংক্ষেপে এক্সপোস্যাট স্যাটেলাইটটি। সি-৫৮ রকেটে চেপে মহাকাশে উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল স্যাটেলাইটটি। এটি মাত্র ২১ মিনিটে মহাকাশে ৬৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছবে। এটি হল সি-৫৮ রকেটের ৬০তম মিশন। এই মিশনে এক্সপোস্যাটের সাথে আরও ১০টি স্যাটেলাইট পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্থাপন করা হবে।

ইসরো চেয়ারম্যান এস সোমনাথ সোমবার বলেন, ‘আরও এক সাফল্য পেলাম পিএসএলভি-তে। এক্সপোস্যাট স্যাটেলাইট নির্দিষ্ট কক্ষপথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সামনে আরও উত্তেজনাময় সময় অপেক্ষা করে আছে। সবে বছর শুরু হল। এ বছর আরও অনেক প্রকল্প রয়েছে। ২০২৪ গগনযানের বছর।’

এক্সপোস্যাটে রয়েছে দু’টি পেলোড; পোলিক্স বা পোলারিমিটার ইনস্ট্রুমেন্ট ইন এক্স-রে এবং এক্সস্পেক্ট বা এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি অ্যান্ড টাইমিং। রমন রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার যৌথ ভাবে এই পেলোড তৈরি করেছে।

উপগ্রহ স্থাপনের পর বিজ্ঞানীরা পিএসএলভি-সি৫৮ কে পৃথিবীর দিকে ৩৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় নিয়ে আসবেন। এর জন্য রকেটের ফোর্থ স্টেজটি ব্যবহার করা হবে। এখানে পিএসএলভি অরবিটাল এক্সপেরিমেন্টাল মডিউল -৩ পরীক্ষা করা হবে। মহাকাশে পাঁচ বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে এক্সপোস্যাট। অর্থাৎ এর আয়ু ২০২৮ সাল পর্যন্ত। এই মিশনটিতে ২৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে ইসরো।

এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সন্ধান করা হবে মহাকাশে এক্স-রে উৎসের। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইসরো ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে গবেষণায় নতুন দিশা পেতে পারে। মহাকাশে কৃষ্ণগহ্বর তথা ব্ল্যাক হোলের উপস্থিতি, সন্ধান ও উৎসের তথ্য জোগাড় করার চেষ্টা করবে এক্সপোস্যাট স্যাটেলাইটটি। এই স্যাটেলাইটটির মাধ্যমে কোথায় কোথায় কৃষ্ণগহ্বর রয়েছে, তার খোঁজও মিলতে পারে। নতুন ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ঠিকানার সন্ধানও মিলতে পারে। এছাড়াও এক্সপোস্যাটের মহাকাশে ৫০টিরও বেশি উজ্জ্বলতম শক্তির উৎসকে পর্যবেক্ষণ করার কথা। সেই তালিকায় রয়েছে সুপারনোভা, নিউট্রন স্টার। নিউট্রন স্টার হল অনেকগুলি নিউট্রন কণা গাঢ় ঘনত্বে একত্রিত হয়ে তৈরি নক্ষত্র। ক্ষুদ্র আকারের হয় এই ধরনের নক্ষত্র। সর্বসাকুল্যে নিউট্রন স্টারের ব্যাসার্ধ ৩০ কিলোমিটারের বেশি নয়।

এই ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ এর আগে একবারই মাত্র মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে। নাসা ২০২১ সালে তা উৎক্ষেপণ করে। আমেরিকার পর এবার ভারতই দ্বিতীয় দেশ যে এই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ করল। ২০২১ সালে নাসা যে কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছিল, তার নাম ইমেজিং এক্স-রে পোলরিমেট্রি এক্সপ্লোরার বা আইএক্সপিই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *