SASHI TAHROOR  SLAMS MODI- হিন্দু হৃদয় সম্রাট- মোদীকে কটাক্ষ থারুরের


দিন দর্পণ, নয়াদিল্লি- সব অস্ত্র শেষ। এবার নিজেদের শেষ অস্ত্র হিসাবে ২০২৪-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (modi)হিন্দু হৃদয় সম্রাট হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি (bjp)। মূলত দেশে-বিদেশে মন্দির উদ্বোধন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দিলেন থারুর (tharoor)।

আগামী ২২ জানুয়ারী (january)অযোধ্যার (ayodhya)রামমন্দিরে (rammandir)প্রাণ প্রতিষ্ঠা করবেন প্রধানমন্ত্রী (pm)। শুধু তাই নয় দেশের বাইরেও মন্দির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বছর দুয়েক আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সেই মন্দিরের শিলান্যাস করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার সেই মন্দিরের উদ্বোধনও করবেন তিনিই। ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি (february)মোদির হাতেই উদ্বোধন হবে মন্দিরটির। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আবু ধাবি যাওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই থারুর আক্রমণ করেছেন মোদিকে।

তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ বলছেন, ‘সেই ২০০৯ সাল থেকে বিজেপি নরেন্দ্র মোদিকে বিকাশ পুরুষ হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। সেসময় গুজরাটের উন্নয়ন মডেলের মুখ ছিলেন মোদি। তাঁকে কাছে পেয়ে ভোটাররা যেন সোনা হাতে পেয়ে যান। ২০১৯ সালে নোট বাতিলের পর সেই ধারণা ভেঙে পড়ায় পুলওয়ামা হামলাকে হাতিয়ার করে প্রতিরক্ষার জিগির তুলে ভোট করিয়েছেন মোদি। এবার ২০২৪ সালে এসে এটা স্পষ্ট যে মোদি নিজের পুরনো অস্ত্রে ব্যবহার করতে চলেছেন। হিন্দু হৃদয় সম্রাট হতে চলেছেন।’

বস্তুত মোদি যে ২০২৪ নির্বাচনে নিজেকে হিন্দু হৃদয় সম্রাট হিসাবে তুলে ধরতে চাইছেন সেটা কারও অজানা নয়। বিজেপিও রামমন্দির উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে গুচ্ছ পরিকল্পনা করে রেখেছে। উদ্দেশ্য, লোকসভা ভোট পর্যন্ত গোটা দেশে হিন্দুত্বের হাওয়া তুলে দেওয়া। আর সেই হাওয়ার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অবশ্যই থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেটাই আশঙ্কার মূল কারণ কংগ্রেস তথা থারুরদের।

সম্প্রতি রামমন্দির নিয়েও মোদি সরকারকে নিশানা করতে ছাড়েননি শশী থারুর। মন্দির নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, জনকল্যাণ, দেশের সুরক্ষা- এসব নিয়ে সরকারের ভাবা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। রামমন্দিরকে সামনে রেখে মোদি সরকার ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বলে করেছেন অভিযোগ।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ শশী থারুরের। তিরুবনন্তপুরম আসনে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে লোকসভায় প্রবেশ করেছিলেন তিনি। নির্বাচনে সিপিআই প্রার্থী পি রামচন্দ্রন নায়ারকে প্রায় ৯৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিরুবনন্তপুরম আসন থেকে জয়ের হ্যাটট্রিকও করেছেন থারুর।

শুধু তাই নয় ২০০৯ সালের পর দেশজুড়ে প্রবল গেরুয়া ঝড়ের মধ্যেও ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে তিরুবনন্তপুরন আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশের আগে রাষ্ট্রসংঘের ভারতের প্রতিনিধি ছিলেন কংগ্রেসের এই সাংসদ। ২০০৬ সালে মহাসচিব পদে প্রার্থীও হয়েছিলেন।

অবশ্য, থারুরকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। বিশেষ করে কংগ্রেস দলের মধ্যে। একাধিকবার দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। সমালোচনা করেছিলেন গৃহীত নীতিরও। গত কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনেও অফিসিয়াল প্রার্থী মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। এরজন্য শাস্তিও পেতে হয়েছে তাঁকে। সাংগঠনিক সমস্ত পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *