FUCHKA দ্রৌপদীই নাকি বানিয়েছিলেন ফুচকা


ফুচকা কবে, কোথা থেকে এসে জাঁকিয়ে বসল তা বলা মুশকিল। তবে অনেকে বলেন, ফুচকার খোঁজ পাওয়া যায়  মহাভারতে। দ্রৌপদীই নাকি বানিয়েছিলেন ফুচকা। দ্রৌপদীর সবে বিয়ে হয়েছে। পঞ্চপাণ্ডব এবং কুন্তী তখন বনবাসী। খুবই অভাবের সংসার। ভিক্ষা করেই রোজ খাবার জোগাড় করতে হয়। তাই খাবার নষ্ট করার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একদিন বেচে গিয়েছিলো আলুর তরকারি আর আটার মণ্ড। এরপর কুন্তী সেই বেচে যাওয়া খাবার তুলে দিয়েছিলেন দ্রৌপদীর হাতে, পরের দিনের খাবার বানাবার জন্য। সেখান থেকেই দ্রৌপদী বানিয়ে ফেলে এক অদ্ভুত খাবার। দ্রৌপদী নিজেই তার নাম দেয় ফুলকি।  প্রাচীন ভারতের মগধ আজ হয়ে উঠেছে বিহার। আর বিহারে কিন্তু এই গল্পটাই প্রচলিত রয়েছে। তবে এই গল্পের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। আসলে ইংরেজরা ভারতে আসার আগে ভারতবাসী আলুকে চিনতোই না। তবে ফুলকা নামে এক রকম রুটি কিন্তু উত্তর বা পশ্চিম ভারতে আজও পাওয়া যায়। লুচির থেকেও আকারে ছোট। আবার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতেও শোনা যায় মৃণালিনী নাকি দেবী বানাতেন বিশেষ একরকম লুচি। যা ফুচকার মতোই দেখতে। আবার খাদ্য তত্ত্ব বিশারদ কুরুশ দালালের মতে, কেউ ছোট ছোট রাজ-কচুরি বানিয়েছিলেন, তা থেকেই ফুচকার জন্ম। তবে ফুচকা নিয়ে বিহারিরা যতই বড়াই করুক না কেন, বাংলার ফুচকা কিন্তু বলে বলে গোল দিতে পারে বিহারের ফুচকার স্বাদকে। অঞ্চল ভেদে ফুচকার নাম রয়েছে নানা রকম। যেমন মহারাষ্ট্রঃ পানিপুরি, হরিয়ানাঃ পানি পাতাশি, মধ্যপ্রদেশঃ ফুলকি, উত্তর ভারতঃ গোলগাপ্পা, ওড়িশাঃ গুপচুপ, আসামঃ ফুসকা প্রভৃতি- এক কথায় অষ্টোত্তর শতনাম নিয়ে রয়েছে ফুচকা। কিন্তু ফুচকা রসিক মাত্রই শুক্নো ছোলা-মটরের ঘুগনি ভরা গোলগাপ্পা, পানিপুরিদের থেকে অনেক বেশি পছন্দ করেন পশ্চিমবঙ্গের আলুরপুর, ঘুগনি, আর নানারকম মশলা মেশানো গোল গোল ফুচকা। ওড়িশাতে আবার ফুচকার পুরের মধ্যে পেঁয়াজ মেশানো হয়। বাকি ভারতে ফুচকা  নিরামিষ।  পেঁয়াজ-রসুনের সঙ্গে পর্যন্ত তার সম্পর্ক নেই। তবে কোনও কোনও অঞ্চলে তেঁতুল জলের পরিবর্তে দেওয়া হয় পুদিনা জল। বর্তমানে অবশ্য ফুচকাতেও ফিউশনের ছড়াছড়ি। দৈ ফুচকা, চাটনি ফুচকা তো ছিলই, এখন চকোলেট ফুচকা পর্যন্ত বাজারে এসে গিয়েছে। ফুচকা এখন আর কেবল রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে শাল পাতায় খাওয়ার মতো গরিবি খাবার নয়। এসি রেঁস্তোরাতেও নেওয়া যায় ফউচকার স্বাদ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *