দিন দর্পণ, কলকাতা: মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে দু’দিনের বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন। ২১ ও ২২ নভেম্বর এই দু’দিন চলবে সম্মেলন। দু’দিনের এই সম্মেলনে ২৮টি দেশ থেকে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। থাকবেন বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরাও। ‘বাংলা মানে ব্যবসা’, আর এই ভাবনাকেই সুদূরপ্রসারী করার পাশাপাশি বিনিয়োগ পাওয়ার লক্ষ্যে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন।
প্রধান অতিথি হিসেবে এই সম্মেলনে হাজির থাকবেন ভারতের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রিলায়েন্স কর্ণধার মুকেশ আম্বানি। পাশাপাশি যোগ দেবেন বাংলার শিল্পপতিরাও। এছাড়াও, দুবাই খ্যাত লুলু গ্রুপের আধিকারিকরা এই বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারেন এমন সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই গোষ্ঠী কলকাতা সংলগ্ন জেলাগুলোতে বিনিয়োগের ঘোষণাও করতে পারে। এছাড়াও মহুয়া মৈত্র কাণ্ডে বিতর্কিত দুবাইবাসী দর্শন হিরানন্দানিও আসতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
রাজারহাটের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার এবং আলিপুরের ধনধান্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দু’দিনের সম্মেলন। সূত্রের খবর, এই সম্মেলনের জন্য গত ছয়মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রী শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা অমিত মিত্র-সহ বিভিন্ন শিল্প গোষ্ঠীর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।
বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আগে সেজে উঠেছে কলকাতা, রাজারহাট সল্টলেক-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় করা হয়েছে রাস্তা সংস্কারের কাজ। রাস্তার দুইধারে রং করে বেশ চকচকে করা হয়েছে। কলকাতা বিমান ব¨র থেকে অতিথিরা এসে পৌঁছাবেন কেউ রাজারহাট নিউটাউনে আবার কেউ যাবেন দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেলে। আর সেই সব বিষয়কে মাথায় রেখে ফুটপাতে বসানো হয়েছে নতুন পেভার ব্লক।
রাস্তার রেলিং, ফুটপাতের কার্ভ চ্যানেল নীল, সাদা রংয়ের প্রলেপ পড়েছে। পথের দু’ধারে এবং ফ্লাইওভারের নীচে বাহারি গাছ গাছালি চোখে পড়ছে। স্ট্রীট লাইটগুলিকে এলইডি চেনে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। গোটা তিলোত্তমাকে এভাবেই সাজিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াতের পথে চোখ কাটছে বড় বড় হোর্ডিং, ব্যানার। তাতে বাংলার উন্নয়ন এবং সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। কোনটায় দাবি করা হয়েছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষায় কত বিনিয়োগ হয়েছে, আবার কোনটায় দেখানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক বৃদ্ধির হার কত। আবার কোনও হোডিংএ দেখানো হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বাংলার অগ্রগতির পরিসংখ্যান। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে রাজ্যের মহিলার ক্ষমতায়ন কীভাবে হয়েছে সে কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সাফল্য পৃথকভাবে রাজারহাট নিউটাউন থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকাতে হোর্ডিং, ব্যানার দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের মূল অনুষ্ঠান অর্থাৎ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে। কনভেনশন সেন্টারের ঢোকার মুখেই দেবী দুর্গার মূর্তি রাখা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পপতি থেকে শুরু করে অতিথিরা যখন আসবেন তাঁদের চোখে পড়বে দেবী দুর্গার মূর্তি। গোটা কনভেনশন সেন্টার থেকে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কী কী সাফল্য এসেছে তা তুলে ধরে একাধিক হোর্ডিং, ব্যানার লাগানো হয়েছে। এতদিন বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন হতো রাজারহাটের বিশ্ববাংলা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে। এবার মোট তিনটি জায়গায় হবে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন।
বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের জন্য নিউটাউন চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে। ২১ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত কোনও পণ্যবাহী গাড়ি ওই পথে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। সকাল ৭টা থেকে মাঝরাত পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি চালু থাকবে। নিউটাউন চত্বরে বিশ্ববাংলা সরণি হয়ে বেশ কিছু বাসও চলাচল করে। সেগুলিরও যাত্রাপথ ২১ নভেম্বরের জন্য পরিবর্তন করা হয়েছে। বিধাননগর পুলিশের তরফে ট্র্যাফিক সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে বাস চলাচলের পরিবর্তিত রুটের কথা। চিংড়িঘাটা থেকে নিউটাউন হয়ে বিমানবন্দরের দিকে যাতায়াত করে, এমন মোট দশটি বাস রুট রয়েছে। সেগুলিকে মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভিআইপি রোড হয়ে চলাচল করবে। এছাড়া চিনার পার্কের থেকে নারকেলবাগানের দিকে যাতায়াত করা বাসগুলিকে আকাঙ্খা মোড় হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সব মহল। বিশেষ করে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার পর থেকে এবারের বাণিজ্য সম্মেলন ঘিরে চর্চা আরও বেড়েছে।
