আশা কৈরী, বেঙ্গালুরু
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ভেতরের ছবি এবং স্টেডিয়ামের বাইরে ছবি দেখে বোঝা মুশকিল শুক্রবার ধনতেরাসের পুজো এবং রবিবার দিওয়ালি। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা যখন একে একে টিম বাস থেকে নেমে মাঠে প্রবেশ করছেন তখন অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটপ্রেমীদের চিৎকার কানে তালা দেওয়ার মতো অবস্থা।
বেঙ্গালুরু কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং উইকেটকিপার-ব্যাটার লোকেশ রাহুলের শহর। তাতে কি, সবার দৃষ্টি যে বিরাট এবং রোহিতের দিকেই ছিল। শেষ ম্যাচেই ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৪৯তম একদিনের শতরান করে মাস্টার ব্লাস্টার সচিনকে স্পর্শ করছেন। বেঙ্গালুরুবাসী ধরেই নিচ্ছেন, ৫০তম শতরানটা রবিবারই করে ফেলবেন কিং কোহলি। রাহুলের শহরে বিরাটই রাজা, বললে এতোটুকু ভুল হবে না। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে খেলার জন্য বেঙ্গালুরু বিরাটের হোম গ্রাউন্ড। চিন্নাস্বামী প্রতিটি ঘাস যে হাতের তালুর মত চেনেন বিরাট। ৫০তম শতরান করে দিওয়ালির উপহার দিতে পারেন কি কোহলি।
এদিকে রোহিত পরে প্রবেশ করেন। মাঠে ঢুকেই ‘নো প্লে এরিয়াতে প্রবেশ করলেন অধিনায়ক। সোজা হেটে গেলেন পিচের দিকে। একটু পরই রোহিতের সঙ্গে যোগ দিলেন প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়ও। অনেকটা সময় ধরে পিচের দিকে তাঁকিয়ে নিজেদের আলোচনা করছিলেন। পিচে এখনও সবুজ ঘাস আছে। প্রেস বক্স থেকে পরিস্কার সবুজাভ পিচের ইঙ্গিত করছে। কিন্তু শনিবার যদি ঘাস ছেটে ফেলা হয়, অবাক হওয়ার মত ব্যাপার হবে না।
কোচ এবং অধিনায়ক যখন পিচ নিয়ে ব্যস্ত তখন বিরাট সোজা লাইন ধরে স্লিপে ক্যাচ অনুশীলনে ব্যস্ত। প্রথম একটা বল এসে হালকা ভাবে হাতে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে বিরাট হাতটা সরিয়ে নিয়ে নাড়তে থাকেন। বোঝা যাচ্ছে ব্যথা অনুভব করেছেন। না, তারপরই আবার স্বমিহমায় ক্যাচিং অনুশীলন শুরু করে দেন। তারপর দুটো দল করে হ্যান্ডবল খেলা চলে। তারপর নেটে ব্যাটিং অনুশীলন।
শুক্রবার ভারতীয় দলের পুরোদমে অনুশীলন দেখে মনে হতে পারেই রবিবার নিশ্চয় কোনও বড় দলের বিরুদ্ধে খেলা। না, এখানেই অনেকে ভুল করবেন। নবাগত নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে রবিবার দিওয়ালির দিন খেলতে নামবে ভারত। প্রতিপক্ষ ডাচ হলে কি হবে, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট কোনও রকম ঝুকি নিতে চাইছে না।
ভারত চলতি বিশ্বকাপে টানা আটটা ম্যাচ জিতে অপরাজিত থেকেই প্রথম দল হিসেবে শেষ চারে আগেই চলে গেছে। এখন পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের যা অবস্থা, ১৫ নভেম্বর বুধবার ভারত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলতে নামবে। যদি না শনিবার ইডেনে পাকিস্তান ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫০ প্লাস রানের বড় ব্যবধানে জিতে যায়। সেটা সম্ভব বা অসম্ভব এখনি বলা ঠিক নয়। ক্রিকেট হচ্ছে এক বলের খেলা। কখন কি হয়ে যায় আগে থেকে ভবিষ্যৎ বানী করা কঠিন।
আসলে ভারত ডাচদের বিরুদ্ধে নাক আউটের বিরুদ্ধে নিজেদের পারফরম্যান্স আরেকবার ঝালিয়ে নিতে চায়। নক আউটে যেন কোনও রকম ভুল না হয়। তাই কোচ রাহুল দ্রাবিড়কে দেখে মনে হচ্ছে তিনি কোনও রকম রিস্ক নিতে চান না। নক আউটকে টার্গেট করেই ডাচদের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের প্রস্ততি সেরে নিতে চাইছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
