আশা কৈরী, বেঙ্গালুরু
নেদারল্যান্ডসে অনেকেই জানেন না ফুটবল ছাড়াও নেদারল্যান্ডস ক্রিকেটও খেলছে। নেদারল্যান্ডস ফুটবলের শহর বলেই পরিচিত। আইসিসি তে নেদারল্যান্ডস অন্তর্ভুক্ত হলেও ডাচরা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না, শুক্রবার চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে অনুশীলনের পর বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেই জানালেন বাঁ হাতি ওপেনার বিক্রমজিৎ সিং।
চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ৫২ রান করেছিলেন বিক্রমজিৎ। তারপর আর ব্যাটে বড় রান নেই। তাই হিট মারার অনুশীলনে মন দিয়েছেন।
তার আগেই নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করছিলেন। প্রতিটা বলেই তুলে তুলে ছয় মারছিলেন। তাঁর একটা বিগ হিট কলকাতার এক সাংবাদিকের পায়ে এসেও লাগে। হিটম্যানকে দেখেই এরকম ছয় মারার জন্য নিজেকে অনুপ্রাণিত করেছেন বিক্রমজিৎ। ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলিকে অনুসরণ করলেও তাঁর পছ¨ের ক্রিকেটর দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার কুইন্টন ডি’কক। ‘রোহিতের মতো ছয় মারার অনুশীলন করি। রোহিত দুর্দান্ত হিট করে। কল্পনা করা যায় না।’ অকপটে বললেন ২০ বছরের জুনিয়র ব্যাটার। তারপরই বললেন, ‘রবিবার নিশ্চয় বিরাট ৫০ তম শতরান করবে আমাদের বিরুদ্ধে।’ ফাইনালের প্রসঙ্গ উঠতেই বিক্রমজিৎ বলেন, ‘ভারতই চ্যাম্পিয়ন হবে। আমি ভারতের পক্ষে। ’
চলতি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সবার নজরে এসেছিলেন ডাচরা। আফ্রিকান বোলারদের প্রশংসা করলেও বর্তমানে ভারতীয় পেস ত্রয়ী বুমরাহ-সামি-সিরাজকে এগিয়ে রাখলেন বিক্রমজিৎ। বলেন, ‘সেরা পেস আক্রমণ আফ্রিকানদের। বর্তমানে কিন্তু ভারতের পেস ত্রয়ী ভয়ঙ্কর ফর্মে রয়েছে।’ তবে একটা বা দুটো ম্যাচে জয় নয়, নিয়মিত জয়ের অভ্যাস করতে চায় ডাচরা সেটা বিক্রমজিতের কথাতেই বোঝা যাচ্ছে।
১১ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক পিটার বরর্নের নজরে পড়েন। তিনি বিক্রমজিৎকে ভিআরএ -র হয়ে ক্লাব ক্রিকেটে খেলার জন্য রাজি করিয়েছিলেন। পিটার এবং অমিত উনিয়াল তাঁকে প্রথমে ক্রিকেটের পাঠ দেন। কয়েকবছর চন্ডীগড়ে অমিতের ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতেও প্রশিক্ষণ নেন। ১৫ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন। ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পঞ্জাবে চিমা খারদে জন্ম। পরিবারিক সূত্রে তারপর নেদারল্যান্ডসে বড় হয়েছেন।
অনূর্ধ্ব -১৯ দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানও করেছিলেন। ২০১৯ সালে ১৯ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের টি-২০ দলে সুযোগ পান।
ভারতে প্রথম বার ক্রিকেট খেলতে এসে বেশ উচ্ছ্বাসিত ডাচ ওপেনার। বলেন, ‘এখানে প্রথম বার খেলতে এসেছি। দারুণ লাগছে। এখানকার পরিবেশ এবং ক্রিকেট নিয়ে এতো আবেগ, দারুন।’
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দু’মাস আগে থেকেই নেদারল্যান্ডস বেঙ্গালুরুতে শিবির করেছিল। এই প্রসঙ্গে বিক্রমজিৎ বলেন, ‘এখানকার পরিকাঠামো, পরিবেশ, সবকিছু আমাদের বিশ্বকাপের জন্য তৈরি হতে বেশ সাহায্য করেছে।’ তারপরই বলেন, শুধু একদিন বা টি-২০ নয়, টেস্ট ক্রিকেটও খেলতে চায় নেদারল্যান্ডস। বলেন, ‘আমরা যদি নিয়মিত ভাল খেলি তাহলে অনেকেই আমাদের অনুসরণ করে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ দেখাবে।’
সুযোগ পেলে আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলতে চান নিজেই জানালেন। বলেন, ‘আমি নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলতে চাই এবং জিততে চাই। যদি আইপিএলে খেলার সুৃযোগ পাই তাহলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলতে চাই।’
