দিন দর্পণ, রায়পুরঃ প্রথম দফার ভোটের দিনই উত্তপ্ত ছত্তিশগড়। এ দিন সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সুকমা অঞ্চলে আইইডি বিস্ফোরণ হয়। আহত হন সিআরপিএফ জওয়ান। বেলা ৩টে নাগাদ ভোটপর্ব শেষ হতে না হতেই ফের উত্তেজনা মাও অধ্যুষিত এই এলাকায়। গুলির লড়াই শুরু হয় মাওবাদী এবং নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে। জানা গিয়েছে, চারজন সিআরপিএফ জওয়ান এই এনকাউন্টারে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে এক দফাতেই ভোট নেওয়া হয় মিজোরামে। রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ৮.৫৭ লক্ষেরও বেশি। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৭৪। মোট মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ১৮ জন। ভোট পর্ব মিটেছে মিজোরামেও। ভোটের আগে মায়ানমারের সঙ্গে ৫১০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ৩১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়। এছাড়াও অসমের তিনটি জেলা, মণিপুরের দুটি জেলা এবং ত্রিপুরার একটি জেলার সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সীমানাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের কয়েকঘণ্টা আগে থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় ছত্তিশগড়ে। সুকমা জেলায় মাওবাদীরা আইইডি বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানা যায়। এরপর ওই জেলাতেই তিনটি আলাদা স্থানে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে মাওবাদীদের। আইইডি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন সিআরপিএফ-এর কোবরা ইউনিটের চার জওয়ান।
এদিন বিকেলের এনকাউন্টারের সময় হামলাকারীদের থেকে একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, দু’এক জন মাওবাদী এই এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সুকমা জেলার পানওয়াল গ্রামের বান্দে থানা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। বিএসএফ এবং জেলা সংরক্ষিত বাহিনীর জওয়ানরা মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এই বন্দে থানা এলাকা অনন্তগড় বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে। এদিন যে ২০টি বিধানসভা এলাকায় ভোট হয়, সেখানেই এই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে। ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলায় মাওবাদীদের সঙ্গে বিএসএফ এবং জেলা সংরক্ষিত বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ভোটের ডিউটি করার সময় নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। পাঁচ থেকে দশ মিনিট চলে গুলির লড়াই। পরে মাওবাদীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। তাদের বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হামলাকারীদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।
সুকমা, বাস্তার, কাঙ্কের জেলাতে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোটপর্বে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলে মাওবাদীদের পক্ষ থেকে। সুকমায় ভোট চলাকালীন জঙ্গলের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে মাওবাদীদের গুলির লড়াই চলে। ওই এলাকায় মাওবাদীরা ভোট বয়কটেরও ডাক দেয়। ছত্তিশগড়ের এই সুকমা ভোটের আগে থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মাওবাদীরা এখানে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেয়নি। ভোট বয়কটের ডাক দেয় মাওবাদীরা। জেলা সংরক্ষিত বাহিনীর সঙ্গে নকশালবাহিনীর গুলির লড়াই শুরু হয়। দশ মিনিট ধরে তার জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।
এদিকে, রেকর্ড ভোট পড়েছে ছত্তিশগড়ে। ভোটের হার ৭০.৮৭ শতাংশ। মিজোরামে ভোট পড়েছে ৬৯ শতাংশ। এই রাজ্যে বিকেল ৪টে নাগাদ শেষ হয় ভোট। মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৮ লক্ষ ৫৭ হাজার।
